..............................................................
নিবন্ধনের শেষ তারিখ: ২৫ রবীউল আউয়াল ১৪৪৭ হি, মোতাবেক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ঈ. পর্যন্ত।
পরিচিতি
বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ
(গওরহডাঙ্গা শিক্ষাবোর্ড) প্রতিষ্ঠার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
পৃথিবীর শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হয় কওমি মাদরাসা শিক্ষা ধারা থেকে। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র মক্কাতুল মুকার্রমায় অবস্থান কালে দারে আরকাম এবং পবিত্র মদিনাতুল মুনাওয়ারায় অবস্থান কালে মসজিদে নববীর সম্মুখস্থ ছুফফায় উলূমে নবুয়্যাতের যে শিক্ষার ভীত রচনা করেছিলেন এবং সাহাবায়েকেরাম, তাবেঈ, তাবেতাবেঈ ও সালফে সালেহীন গন যে শিক্ষা ব্যবস্থার লালন এবং প্রচার করেছেন, সে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানিক নাম হচ্ছে কওমি মাদরাসা।
একটা সময় পাক—ভারত উপমাহাদেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যাবস্থার জয়জয়াকার ছিল। মোঘল আমলে দিল্লিতে প্রায় ২০ (বিশ) হাজার এবং বাংলাদেশে প্রায় ৮০ (আশি) হাজার মাদরাসা ছিল। ১৮৮৫ ঈসায়ী সনে সা¤্রাজ্যবাদী বৃটিশ পাক—ভারত উপমহাদেশের শাসন ব্যাবস্থা দখল করার পরে তাদের বুর্জুয়া শোষণের জাতাকলে আস্তে আস্তে কওমি মাদরাসা সমূহ চরম সঙ্কটকাল অতিবাহিত করে। এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তলনের জন্য দীর্ঘ চিন্ত—ভাবনা ও পরামর্শের পর দ্বীনি ইলম, ইসলামী তাহজিব— তামাদ্দুনের সংরক্ষণ ও প্রচার— প্রশারের সুমহান উদ্দেশ্য কে সামনে নিয়ে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কি রহ. এর দিকনির্দেশনায় হযরত কাসেম নানুতুবী রহ. এর নেতৃত্বে একদল নির্বিক যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গানে দ্বীনের হাত ধরে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ মে মোতাবেক ১২৮৩ হিজরী সনের ১৫ ই মুহর্রম ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহরানপুর জেলার দেওবন্দ নামক এলাকায় ঐতিহাসিক ছাত্তা মসজিদ প্রঙ্গনে ডালিম গাছের নিচে এ এলহামী প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবান্দ প্রতিষ্ঠিত হয়।
দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ঝাকে ঝাকে তালিবুল ইলম এলমে দ্বীন শিক্ষা করার জন্য জমা হতে থাকে। সেখান থেকে ফারেগ হয়ে দেওবান্দের সূর্য সন্তানেরা বিভিন্ন দেশে নতুন উদ্যমে কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা শুরু করেন। বিশেষ করে পাক— ভারত উপমাহাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে কওমি মাদরাসার নতুন দিগন্ত উন্মচিত হয়। গড়ে উঠতে থাকে বড় বড় কওমি মাদরাসা।
১৯২৬ সালে ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলনের অগ্রদূত মোজাহেদে আজম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী ছদর ছাহেব রহ. দরুল উলূম দেওবন্দ থেকে ফারেগ হয়ে থানভী রুহানিয়াত, আনওয়ারী নূর, মাদানী চেতনা নিয়ে বাংলাদেশে এসে মসজিদ, মাদরাসা, খানকা প্রতিষ্ঠা করে জাতি গঠনে কাজ শুরু করেন। গড়ে তুলেন বড় বড় মাদরাসা। ১৯৩৬ সালে ঢাকার বড়কাটারায় জামিয়া এমাদাদিয়া হুসাইনিয়া বড়কাটারা মাদরাসা, ১৯৩৭ সালে নিজ মাতৃভুমি গওহরডাঙ্গায় জামিআ’ ইসলামিয়া দারুল উলূম খাদেমুল ইসলাম গওহরডাঙ্গা মাদরাসা, ১৯৫০ সালে লালবাগে জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ, ১৯৫৬ সালে জামিয়া আরাবিয়া এমদাদিয়া ফরিদাবাদ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা সহ অসংখ্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ছদর ছাহেব রহ. এর অক্লান্ত পরিশ্্রমের ফলে এই মাদরাসা সমূহ অল্পদিনেই মারকাজী মাদরাসায় রূপলাভ করে। বিশেষ করে লালবাগ মাদরাসাকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ—পশ্চিম অঞ্চলে কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার বিপ্লব সৃষ্টি হয়। গড়ে উঠে অসংখ্য কওমি মাদরাসা।......